Solve Nest Hub

Solve Nest Hub

সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি: সম্পূর্ণ গাইড ও সহজ কৌশল

বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি

বাংলা ভাষা শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি। এই চারটি বিষয় আয়ত্ত না করে বাংলা ব্যাকরণে দক্ষতা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থী—সবার জন্যই এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি, সমাস নিয়ম, কারক বিভক্তি শিক্ষা এবং এই সংক্রান্ত সকল তথ্য সহজ ভাষায় আলোচনা করব।

প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, নিয়ম, উদাহরণ এবং চেনার কৌশল শেখার মাধ্যমে আপনি বাংলা ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠবেন। চলুন শুরু করা যাক।

 

Bangladesh Police ASI Job Circular 2025: লিখিত পরীক্ষার পূর্ণ সিলেবাস, প্রস্তুতির গাইড ও প্রশ্ন ধরন

 

সন্ধি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন বা সংযোগ। বাংলা ব্যাকরণে দুটি বর্ণ বা ধ্বনি পাশাপাশি থাকলে যে পরিবর্তন ঘটে তাকে সন্ধি বলে। বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি শিখলে শব্দের গঠন বুঝতে সুবিধা হয় এবং উচ্চারণ সহজ হয়।

 

সন্ধির উদ্দেশ্য

সন্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো:

  • উচ্চারণ সহজ করা
  • শব্দকে সংক্ষিপ্ত ও শ্রুতিমধুর করা
  • ভাষার প্রাঞ্জলতা বৃদ্ধি করা
  • নতুন শব্দ সৃষ্টি করা

উদাহরণ:
বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
সম + চয় = সঞ্চয়
পর + পর = পরস্পর

 

ইংরেজি বাক্যভাণ্ডার ও কম্পোজিশন উন্নয়ন: সম্পূর্ণ গাইড

 

সন্ধির প্রকারভেদ: বিস্তারিত আলোচনা

 

সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ বুঝতে হলে প্রথমে সন্ধির প্রকারভেদ জানা জরুরি। বাংলা ভাষায় সন্ধি প্রধানত তিন প্রকার:

১. স্বরসন্ধি

দুটি স্বরবর্ণ পাশাপাশি থাকলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে। এটি বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি এর সবচেয়ে সাধারণ রূপ।

স্বরসন্ধির নিয়ম:

ক) অ/আ + অ/আ = আ

  • হিম + আলয় = হিমালয়
  • দেব + আলয় = দেবালয়
  • পরম + অর্থ = পরমার্থ

খ) অ/আ + ই/ঈ = এ

  • দেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র
  • মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র
  • সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়

গ) অ/আ + উ/ঊ = ও

  • মহা + উৎসব = মহোৎসব
  • গঙ্গা + উদক = গঙ্গোদক
  • পর + উপকার = পরোপকার

ঘ) অ/আ + ঋ = অর্

  • দেব + ঋষি = দেবর্ষি
  • মহা + ঋষি = মহর্ষি
  • রাজ + ঋষি = রাজর্ষি

ঙ) অ/আ + এ/ঐ = ঐ

  • সদা + এব = সদৈব
  • মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
  • তথা + এব = তথৈব

চ) অ/আ + ও/ঔ = ঔ

  • মহা + ঔষধ = মহৌষধ
  • পরম + ওজ = পরমৌজ
  • বন + ওষধি = বনৌষধি

ছ) ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ

  • রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র
  • অতি + ইত = অতীত
  • মুনি + ইন্দ্র = মুনীন্দ্র

জ) ই/ঈ + অন্য স্বর = য্

  • অতি + অন্ত = অত্যন্ত
  • প্রতি + এক = প্রত্যেক
  • ইতি + আদি = ইত্যাদি

ঝ) উ/ঊ + উ/ঊ = ঊ

  • ভু + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
  • সু + উক্তি = সূক্তি
  • বধূ + উৎসব = বধূৎসব

ঞ) উ/ঊ + অন্য স্বর = ব্

  • সু + আগত = স্বাগত
  • অনু + এষণ = অন্বেষণ
  • মধু + আলয় = মধ্বালয়

ট) ঋ + অন্য স্বর = র্

  • পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়
  • মাতৃ + আনন্দ = মাত্রানন্দ
  • ঋ + অন = রণ

 

ইংরেজি ভাষা শেখার সহজ উপায় সম্পূর্ণ গাইড

 

২. ব্যঞ্জনসন্ধি

স্বরবর্ণের সাথে ব্যঞ্জনবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে ব্যঞ্জনবর্ণ মিলে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

ব্যঞ্জনসন্ধির প্রধান নিয়ম:

ক) ম্ + ক থেকে ম = ঙ্

  • সম + কল্প = সঙ্কল্প
  • সম + গীত = সঙ্গীত
  • অহম + কার = অহঙ্কার

খ) ম্ + চ থেকে ঞ = ঞ্

  • সম + চয় = সঞ্চয়
  • সম + জ্ঞা = সঞ্জ্ঞা
  • সম + চার = সঞ্চার

গ) ত্/দ্ + শ = চ্ছ

  • উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
  • সৎ + শিষ্য = সচ্ছিষ্য
  • উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ

ঘ) ত্/দ্ + হ = দ্ধ/দ্ ধ

  • তৎ + হিত = তদ্ধিত
  • উৎ + হার = উদ্ধার
  • পদ + হতি = পদ্ধতি

ঙ) ৎ/দ্ + জ/ঝ = জ্জ/জ্ ঝ

  • সৎ + জন = সজ্জন
  • উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল
  • বিপদ + জনক = বিপজ্জনক

চ) ত্/দ্ + ল = ল্ল

  • উৎ + লাস = উল্লাস
  • তৎ + লীন = তল্লীন
  • উৎ + লেখ = উল্লেখ

ছ) স্বর + ছ = চ্ছ

  • আ + ছাদন = আচ্ছাদন
  • পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ
  • প্র + ছদ = প্রচ্ছদ

জ) ন্/ম্ + স্বর = ংস্

  • সম + সার = সংসার
  • কিম + বা = কিংবা
  • সম + স্কৃতি = সংস্কৃতি

 

পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার নির্বাচন গাইড: সঠিক পথ খুঁজে নিন

 

৩. বিসর্গসন্ধি

বিসর্গ (:) এর সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনবর্ণের সন্ধিকে বিসর্গসন্ধি বলে।

বিসর্গসন্ধির নিয়ম:

ক) : + স্বর = র/স/ষ

  • নি: + অন্ন = নিরন্ন
  • দু: + অবস্থা = দুরবস্থা
  • মন: + রঞ্জন = মনোরঞ্জন

খ) : + ক/খ/প/ফ = ষ্

  • ধনু: + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
  • নি: + কাম = নিষ্কাম
  • আবি: + কার = আবিষ্কার

গ) : + ত/থ = স্

  • নম: + তে = নমস্তে
  • পুর: + কার = পুরস্কার
  • মন: + তাপ = মনস্তাপ

ঘ) অ: + অ = ও

  • তপ: + বন = তপোবন
  • মন: + বল = মনোবল
  • তেজ: + ময় = তেজোময়

 

যোগাযোগ দক্ষতা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন: সফলতার চাবিকাঠি

 

সন্ধি বিচ্ছেদ: কৌশল ও অনুশীলন

সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ শেখার জন্য নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন। সন্ধিবদ্ধ শব্দকে মূল অংশে ভাগ করাকে সন্ধি বিচ্ছেদ বলে।

 

সন্ধি বিচ্ছেদের কৌশল

ধাপ ১: শব্দটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
শব্দের উচ্চারণ শুনে বুঝতে চেষ্টা করুন কোথায় মিলন হয়েছে।

ধাপ ২: সন্ধির ধরন চিহ্নিত করুন
এটি কি স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি নাকি বিসর্গসন্ধি তা বুঝুন।

ধাপ ৩: নিয়ম প্রয়োগ করুন
সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বিচ্ছেদ করুন।

ধাপ ৪: যাচাই করুন
বিচ্ছেদকৃত অংশ আবার জোড়া দিয়ে মূল শব্দ পাওয়া যায় কিনা দেখুন।

সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ সারণি

সন্ধিবদ্ধ শব্দসন্ধি বিচ্ছেদসন্ধির প্রকার
বিদ্যালয়বিদ্যা + আলয়স্বরসন্ধি
সঞ্চয়সম + চয়ব্যঞ্জনসন্ধি
মনোবলমন: + বলবিসর্গসন্ধি
রবীন্দ্ররবি + ইন্দ্রস্বরসন্ধি
উজ্জ্বলউৎ + জ্বলব্যঞ্জনসন্ধি
নিরন্ননি: + অন্নবিসর্গসন্ধি
মহোৎসবমহা + উৎসবস্বরসন্ধি
সজ্জনসৎ + জনব্যঞ্জনসন্ধি
পুরস্কারপুর: + কারবিসর্গসন্ধি
দেবেন্দ্রদেব + ইন্দ্রস্বরসন্ধি

সরকারি চাকরি প্রস্তুতি: বিসিএস ও ব্যাংকিং পরীক্ষায় সফলতার সম্পূর্ণ গাইড

 

গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি বিচ্ছেদ (১০০+ উদাহরণ)

স্বরসন্ধি বিচ্ছেদ:

  • হিমালয় = হিম + আলয়
  • পরমার্থ = পরম + অর্থ
  • গঙ্গোদক = গঙ্গা + উদক
  • সূর্যোদয় = সূর্য + উদয়
  • পরোপকার = পর + উপকার
  • দেবর্ষি = দেব + ঋষি
  • মহর্ষি = মহা + ঋষি
  • সদৈব = সদা + এব
  • প্রত্যেক = প্রতি + এক
  • অত্যন্ত = অতি + অন্ত
  • স্বাগত = সু + আগত
  • অন্বেষণ = অনু + এষণ
  • নায়ক = নৈ + অক
  • পাবক = পা + অবক
  • নাবিক = নৈ + ইক

ব্যঞ্জনসন্ধি বিচ্ছেদ:

  • সঙ্কল্প = সম + কল্প
  • সঙ্গীত = সম + গীত
  • অহঙ্কার = অহম + কার
  • সঞ্চার = সম + চার
  • সঞ্জ্ঞা = সম + জ্ঞা
  • উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস
  • উচ্ছেদ = উৎ + ছেদ
  • উদ্ধার = উৎ + হার
  • পদ্ধতি = পদ + হতি
  • উল্লাস = উৎ + লাস
  • উল্লেখ = উৎ + লেখ
  • তল্লীন = তৎ + লীন
  • সংসার = সম + সার
  • সংস্কৃতি = সম + স্কৃতি
  • বাগদান = বাক + দান

বিসর্গসন্ধি বিচ্ছেদ:

  • নিরন্ন = নি: + অন্ন
  • দুরবস্থা = দু: + অবস্থা
  • মনোরঞ্জন = মন: + রঞ্জন
  • তপোবন = তপ: + বন
  • নমস্তে = নম: + তে
  • পুরস্কার = পুর: + কার
  • মনস্তাপ = মন: + তাপ
  • নিষ্কাম = নি: + কাম
  • আবিষ্কার = আবি: + কার
  • তেজোময় = তেজ: + ময়

 

চাকরির ইন্টারভিউ প্রস্তুতির স্ট্র্যাটেজি: সফলতার চূড়ান্ত গাইড

 

সমাস: বাংলা ব্যাকরণের অলংকার

সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপ বা মিলন। পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত দুই বা ততোধিক পদকে একসাথে যুক্ত করে নতুন অর্থবোধক পদ তৈরি করাকে সমাস বলে। সমাস নিয়ম শিখলে বাক্য সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর করা যায়।

সমাসের উপকারিতা

  • ভাষায় সংক্ষিপ্ততা আনে
  • অর্থের গভীরতা বৃদ্ধি করে
  • সাহিত্যিক সৌন্দর্য বাড়ায়
  • নতুন শব্দ সৃষ্টি করে

সমাসের পরিভাষা

সমস্যমান পদ: যে পদগুলো মিলিত হয়
সমস্ত পদ: মিলিত হয়ে যে পদ সৃষ্টি হয়
ব্যাসবাক্য: সমস্ত পদের বিস্তৃত রূপ
পূর্বপদ: সমাসে প্রথম পদ
উত্তরপদ: সমাসে দ্বিতীয় পদ

উদাহরণ:
রাজপুত্র (সমস্ত পদ) = রাজার পুত্র (ব্যাসবাক্য)
এখানে রাজা = পূর্বপদ, পুত্র = উত্তরপদ

 

 

সমাসের প্রকারভেদ: ছয়টি মূল ধরন

সমাসের প্রকারভেদ বুঝলে যেকোনো সমাস সহজে শনাক্ত করা যায়। বাংলা ভাষায় ছয় প্রকার সমাস রয়েছে।

১. দ্বন্দ্ব সমাস

যে সমাসে উভয় পদের অর্থই প্রধান থাকে এবং উভয় পদের মধ্যে ‘এবং’ বা ‘ও’ দ্বারা সংযোগ বোঝায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

চেনার উপায়: ব্যাসবাক্যে ‘এবং’, ‘ও’, ‘আর’ ইত্যাদি থাকবে।

উদাহরণ:

  • দুধ-ভাত = দুধ ও ভাত
  • মাতা-পিতা = মাতা ও পিতা
  • ভাই-বোন = ভাই ও বোন
  • জমা-খরচ = জমা ও খরচ
  • হাট-বাজার = হাট ও বাজার
  • দেশ-কাল = দেশ ও কাল
  • শিক্ষক-শিক্ষিকা = শিক্ষক ও শিক্ষিকা
  • সাহিত্য-সংস্কৃতি = সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • লেখাপড়া = লেখা ও পড়া
  • চাল-ডাল = চাল ও ডাল

দ্বন্দ্ব সমাসের প্রকারভেদ:

ক) মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: দুই পদ মিলিত হয়
উদাহরণ: হাতে-কলমে, দা-কুমড়া

খ) বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব: বিপরীত অর্থের পদ
উদাহরণ: আয়-ব্যয়, লাভ-ক্ষতি, জয়-পরাজয়

গ) বহুপদী দ্বন্দ্ব: দুইয়ের বেশি পদ
উদাহরণ: সাজি-বাজি-কাজি, সাত-পাঁচ

২. দ্বিগু সমাস

যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদটি সমষ্টি বা সমাহার অর্থ প্রকাশ করে তাকে দ্বিগু সমাস বলে।

চেনার উপায়: প্রথমে সংখ্যা থাকবে এবং সমষ্টি/সমাহার বোঝাবে।

উদাহরণ:

  • ত্রিভুবন = তিন ভুবনের সমাহার
  • চৌরাস্তা = চার রাস্তার সমাহার
  • পঞ্চবটী = পাঁচ বটের সমাহার
  • সপ্তাহ = সাত অহের সমাহার
  • ত্রিফল = তিন ফলের সমাহার
  • নবগ্রহ = নয় গ্রহের সমাহার
  • পঞ্চনদ = পাঁচ নদের সমাহার
  • ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার
  • ত্রিরত্ন = তিন রত্নের সমাহার
  • দশানন = দশ আননের (মুখের) সমাহার

৩. কর্মধারয় সমাস

যে সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদের মধ্যে বিশেষণ-বিশেষ্য বা উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ থাকে এবং উত্তরপদের অর্থই প্রধান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

চেনার উপায়: ব্যাসবাক্যে ‘যে’, ‘যা’, ‘যিনি’ থাকবে বা বিশেষণ-বিশেষ্য সম্পর্ক থাকবে।

সাধারণ কর্মধারয়:

  • নীলাকাশ = নীল যে আকাশ
  • কালসাপ = কাল যে সাপ
  • মহারাজ = মহান যে রাজা
  • সৎলোক = সৎ যে লোক
  • লালগোলাপ = লাল যে গোলাপ
  • চন্দ্রমুখ = চন্দ্রের ন্যায় মুখ
  • কমলমুখ = কমলের ন্যায় মুখ
  • ক্ষুদ্রান্ত্র = ক্ষুদ্র যে অন্ত্র
  • মধুমাখা = মধু মাখানো যা
  • রক্তকমল = রক্ত বর্ণ যে কমল

উপমান কর্মধারয়:

  • তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র
  • বজ্রকঠিন = বজ্রের ন্যায় কঠিন
  • বিদ্যুদ্বেগ = বিদ্যুতের ন্যায় বেগ
  • রক্তকরবী = রক্তের ন্যায় রক্তিম করবী

উপমিত কর্মধারয়:

  • মুখচন্দ্র = মুখরূপ চন্দ্র
  • পদপদ্ম = পদরূপ পদ্ম
  • ভুবনমোহন = ভুবনরূপ মোহন

রূপক কর্মধারয়:

  • বিষাদসিন্ধু = বিষাদরূপ সিন্ধু
  • ক্রোধানল = ক্রোধরূপ অনল
  • মনমাঝি = মনরূপ মাঝি

৪. তৎপুরুষ সমাস

যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। সমাস নিয়ম এর মধ্যে এটি সবচেয়ে ব্যাপক।

তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদ:

ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ (কে/রে বিভক্তি লুপ্ত):

  • গ্রামগত = গ্রামকে গত
  • চিরসুখী = চিরকাল সুখী
  • মরণাপন্ন = মরণকে আপন্ন
  • স্বর্গপ্রাপ্ত = স্বর্গকে প্রাপ্ত
  • জলমগ্ন = জলকে মগ্ন
  • দেশান্তরিত = দেশকে অন্তরিত

খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ (দ্বারা/দিয়ে/কর্তৃক বিভক্তি লুপ্ত):

  • মনগড়া = মন দিয়ে গড়া
  • মুখচালিত = মুখ দ্বারা চালিত
  • শোকাতুর = শোক দ্বারা আতুর
  • মধুমাখা = মধু দিয়ে মাখা
  • বিপদগ্রস্ত = বিপদ দ্বারা গ্রস্ত
  • জ্ঞানাহত = জ্ঞান দ্বারা আহত
  • ঋণমুক্ত = ঋণ থেকে মুক্ত

গ) চতুর্থী তৎপুরুষ (জন্য/কে বিভক্তি লুপ্ত):

  • দেশহিতকর = দেশের জন্য হিতকর
  • যজ্ঞাহুতি = যজ্ঞের জন্য আহুতি
  • স্নানঘর = স্নানের জন্য ঘর
  • পাঠশালা = পাঠের জন্য শালা
  • গুরুদক্ষিণা = গুরুর জন্য দক্ষিণা
  • রান্নাঘর = রান্নার জন্য ঘর

ঘ) পঞ্চমী তৎপুরুষ (থেকে/হতে বিভক্তি লুপ্ত):

  • জলজ = জল থেকে জাত
  • বিরত = বি থেকে রত
  • দেশান্তর = দেশ থেকে অন্তর
  • ছাত্রবৃন্দ = ছাত্র থেকে বৃন্দ
  • গৃহভ্রষ্ট = গৃহ থেকে ভ্রষ্ট
  • পদচ্যুত = পদ থেকে চ্যুত

ঙ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ (র/এর বিভক্তি লুপ্ত):

  • রাজপুত্র = রাজার পুত্র
  • দেশসেবা = দেশের সেবা
  • মনোব্যথা = মনের ব্যথা
  • গৃহকোণ = গৃহের কোণ
  • রাজকন্যা = রাজার কন্যা
  • চাবাগান = চায়ের বাগান
  • খেয়াঘাট = খেয়ার ঘাট
  • বিদ্যালয় = বিদ্যার আলয়

চ) সপ্তমী তৎপুরুষ (এ/য়/তে বিভক্তি লুপ্ত):

  • গাছপাকা = গাছে পাকা
  • দিবানিদ্রা = দিবায় নিদ্রা
  • অকালমৃত্যু = অকালে মৃত্যু
  • বনবাস = বনে বাস
  • আকাশচারী = আকাশে চারী
  • জলমগ্ন = জলে মগ্ন

ছ) নঞ্ তৎপুরুষ (না/নাই/নেই অর্থে):

  • অজ্ঞান = না জ্ঞান
  • অসুন্দর = না সুন্দর
  • নাবালক = না বালক
  • অকাল = না কাল
  • বিফল = না ফল
  • নিরক্ষর = নাই অক্ষর
  • নিখুঁত = নাই খুঁত
  • অসম্ভব = না সম্ভব
  • অনিচ্ছা = না ইচ্ছা
  • অনাচার = না আচার

জ) উপপদ তৎপুরুষ (কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত):

  • জলদ = জল দেয় যে (মেঘ)
  • পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (পদ্ম)
  • মধুকর = মধু করে যে (মৌমাছি)
  • গৃহস্থ = গৃহে স্থিত যে
  • পকেটমার = পকেট মারে যে

৫. বহুব্রীহি সমাস

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে অন্য কোনো পদকে বোঝায় অর্থাৎ সমস্ত পদ ভিন্নার্থক হয় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

চেনার উপায়: ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাহার’, ‘যে’ থাকবে এবং তৃতীয় একটি পদ বোঝাবে।

সাধারণ বহুব্রীহি:

  • দশানন = দশ আনন (মুখ) যার (রাবণ)
  • চন্দ্রমুখী = চন্দ্রের ন্যায় মুখ যার (সুন্দরী)
  • পীতাম্বর = পীত অম্বর যার (কৃষ্ণ)
  • আশীবিষ = আশীতে বিষ যার (সাপ)
  • লম্বোদর = লম্বা উদর যার (গণেশ)
  • চতুর্ভুজ = চার ভুজ যার (বিষ্ণু)
  • ত্রিনয়ন = তিন নয়ন যার (শিব)

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:

  • হতশ্রী = হত শ্রী যার
  • হৃতবল = হৃত বল যার
  • জিতেন্দ্রিয় = জিত ইন্দ্রিয় যার
  • ক্ষীণদৃষ্টি = ক্ষীণ দৃষ্টি যার

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:

  • নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার (শিব)
  • মহাত্মা = মহান আত্মা যার
  • সুকণ্ঠ = সুন্দর কণ্ঠ যার

ব্যতিহার বহুব্রীহি (পরস্পর অর্থে):

  • কানাকানি = কানে কানে যে কথা
  • হাতাহাতি = হাতে হাতে যে যুদ্ধ
  • লাঠালাঠি = লাঠিতে লাঠিতে যে মারামারি

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:

  • গোমুখ = গরুর মুখ থেকে যে নদী বের হয়েছে
  • হস্তীমুখ = হস্তীর মুখের ন্যায় যার মুখ (গণেশ)

৬. অব্যয়ীভাব সমাস

যে সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।

চেনার উপায়: প্রথমে অব্যয় থাকবে এবং পুরো সমস্ত পদটি অব্যয় হবে।

উদাহরণ:

  • প্রতিদিন = দিন দিন
  • যথাসাধ্য = সাধ্য অনুসারে
  • আমরণ = মরণ পর্যন্ত
  • নিখুঁত = খুঁত শূন্য
  • বেআইনি = আইনের বিরুদ্ধ
  • উপকূল = কূলের সমীপ
  • নিভয় = ভয়শূন্য
  • যথাযোগ্য = যোগ্যতা অনুসারে
  • আজীবন = জীবন পর্যন্ত
  • অনুরূপ = রূপের অনুসারী
  • প্রত্যুষ = উষার প্রতি
  • উপনদী = নদীর সমীপবর্তী

অব্যয়ীভাব সমাসের প্রকারভেদ:

সামীপ্য অর্থে: উপকূল, উপনগর
সাদৃশ্য অর্থে: যথাশক্তি, যথাসাধ্য
অভাব অর্থে: নির্ভয়, নিস্তব্ধ
পর্যন্ত অর্থে: আমৃত্যু, আজন্ম
অনতিক্রম্য অর্থে: যথানিয়ম, যথারীতি

 

 

সমাস নির্ণয়ের কৌশল: সহজ পদ্ধতি

সমাসের প্রকারভেদ নির্ণয়ের জন্য একটি সহজ চার্ট:

প্রশ্নউত্তর হ্যাঁ হলেসমাসের ধরন
উভয় পদের অর্থ প্রধান?হ্যাঁদ্বন্দ্ব
প্রথমে সংখ্যা + সমষ্টি অর্থ?হ্যাঁদ্বিগু
বিশেষণ-বিশেষ্য + পরের অর্থ প্রধান?হ্যাঁকর্মধারয়
বিভক্তি লোপ + পরের অর্থ প্রধান?হ্যাঁতৎপুরুষ
তৃতীয় পদ বোঝায়?হ্যাঁবহুব্রীহি
প্রথমে অব্যয় + তার অর্থ প্রধান?হ্যাঁঅব্যয়ীভাব

সমাস অনুশীলন: ১০০+ উদাহরণ

দ্বন্দ্ব সমাস: ১. রাত-দিন = রাত ও দিন ২. কলম-দোয়াত = কলম ও দোয়াত ৩. জমিন-আসমান = জমিন ও আসমান ৪. নরনারী = নর ও নারী ৫. দেব-দানব = দেব ও দানব

দ্বিগু সমাস: ১. চৌমাথা = চার মাথার সমাহার ২. তেপায়া = তিন পায়ের সমাহার ৩. পঞ্চমুখ = পাঁচ মুখের সমাহার ৪. সাতসমুদ্র = সাত সমুদ্রের সমাহার ৫. অষ্টাদশ = আট দশের সমাহার

কর্মধারয় সমাস: ১. মহাজন = মহান যে জন ২. ঘনশ্যাম = ঘন শ্যামবর্ণ যার ৩. নীলপদ্ম = নীল যে পদ্ম ৪. সুপুরুষ = সুন্দর পুরুষ ৫. কদাচার = কু আচার

তৎপুরুষ সমাস: ১. রাজভবন = রাজার ভবন ২. বিদ্যাহীন = বিদ্যা থেকে হীন ৩. শাকসব্জি = শাকের সব্জি ৪. টাকাওয়ালা = টাকা আছে যার ৫. অনাহারী = না আহারী

বহুব্রীহি সমাস: ১. পঞ্চানন = পাঁচ আনন যার (কার্তিক) ২. সুশীলা = সুন্দর শীল যার ৩. নীরব = নাই রব যেখানে ৪. বিষধর = বিষ ধারণ করে যে (সাপ) ৫. গজানন = গজের আনন যার (গণেশ)

অব্যয়ীভাব সমাস: ১. উপশহর = শহরের সমীপ ২. প্রত্যহ = প্রতি অহ ৩. নিরাপদ = আপদশূন্য ৪. অনধিকার = অধিকার নাই যে ৫. যথেষ্ট = ইষ্ট অনুসারে

 

 

কারক: বাক্যে শব্দের সম্পর্ক

কারক শব্দের অর্থ যে করে। ক্রিয়াপদের সাথে বাক্যের বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। কারক বিভক্তি শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণের অত্যন্ত জরুরি অংশ।

কারক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • বাক্যের সঠিক গঠন বোঝায়
  • পদের সম্পর্ক স্পষ্ট করে
  • অনুবাদে সাহায্য করে
  • ভাষার শুদ্ধতা রক্ষা করে

কারক নির্ণয়ের প্রশ্ন পদ্ধতি

কারক নির্ণয় কৌশল অনুযায়ী প্রতিটি কারক নির্ণয়ের জন্য বিশেষ প্রশ্ন রয়েছে।

 

 

কারকের প্রকারভেদ: ছয়টি মূল ভাগ

বাংলা ভাষায় ছয় প্রকার কারক আছে:

১. কর্তৃকারক

যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্তৃকারক বলে।

চেনার উপায়: ক্রিয়ার আগে ‘কে’ বা ‘কারা’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়।

উদাহরণ:

  • ছেলেরা খেলছে। (কে খেলছে? ছেলেরা)
  • রহিম বই পড়ে। (কে পড়ে? রহিম)
  • বৃষ্টি পড়ছে। (কী পড়ছে? বৃষ্টি)
  • পাখি উড়ে। (কে উড়ে? পাখি)
  • মা রান্না করেন। (কে করেন? মা)

কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভক্তি থাকে না।
কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি: যৌগিক ক্রিয়ায়—রহিমকে দিয়ে কাজ করানো হলো।
কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি: ব্যক্তিবাচক শব্দে—তার দ্বারা কাজ হবে।

২. কর্মকারক

ক্রিয়ার ফল যার উপর পড়ে তাকে কর্মকারক বলে।

চেনার উপায়: ক্রিয়ার পরে ‘কী’ বা ‘কাকে’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়।

উদাহরণ:

  • রহিম বই পড়ে। (কী পড়ে? বই)
  • মা ভাত রান্না করেন। (কী রান্না করেন? ভাত)
  • সে চিঠি লিখছে। (কী লিখছে? চিঠি)
  • আমি তোমাকে ভালোবাসি। (কাকে ভালোবাসি? তোমাকে)
  • শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান। (কাকে পড়ান? ছাত্রকে)

কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি: সচেতন প্রাণীবাচক কর্মে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হয়।
কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি: জড় বস্তুবাচক শব্দে বিভক্তি থাকে না।

৩. করণকারক

যার সাহায্যে বা যে উপকরণে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণকারক বলে।

চেনার উপায়: ‘কী দিয়ে’, ‘কীসের দ্বারা’, ‘কী কারণে’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়।

উদাহরণ:

  • কলম দিয়ে লেখা হয়। (কী দিয়ে? কলম)
  • চোখে দেখা যায়। (কী দিয়ে? চোখ)
  • মন দিয়ে পড়া উচিত। (কী দিয়ে? মন)
  • মেঘে বৃষ্টি হয়। (কীসে? মেঘে)
  • দুঃখে কাতর হওয়া। (কী কারণে? দুঃখ)

করণকারকে তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক।
করণকারকে সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

৪. সম্প্রদানকারক

যাকে দান, স্বত্ব ত্যাগ বা শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে সম্প্রদানকারক বলে।

চেনার উপায়: ‘কাকে’ বা ‘কার জন্য’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় এবং দান/ত্যাগ অর্থ থাকবে।

উদাহরণ:

  • গরিবকে দান করো। (কাকে দান করো? গরিবকে)
  • শিক্ষককে সম্মান করো। (কাকে সম্মান করো? শিক্ষককে)
  • ছাত্রকে বই দিলাম। (কাকে দিলাম? ছাত্রকে)
  • মাকে ফুল দাও। (কাকে দাও? মাকে)
  • ব্রাহ্মণকে ভিক্ষা দিয়েছি। (কাকে দিয়েছি? ব্রাহ্মণকে)

সম্প্রদানকারকে চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে (দান/ত্যাগ অর্থে)।
সম্প্রদানকারকে জন্য: এর জন্য, নিমিত্ত।

৫. অপাদানকারক

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, বিরত, রক্ষিত বা দূরীভূত হয় তাকে অপাদানকারক বলে।

চেনার উপায়: ‘কোথা থেকে’, ‘কী থেকে’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় এবং পৃথকীকরণ অর্থ থাকবে।

উদাহরণ:

  • গাছ থেকে ফল পড়ে। (কোথা থেকে? গাছ থেকে)
  • দুধ থেকে দই হয়। (কী থেকে? দুধ থেকে)
  • বিদ্যালয় হতে ছুটি। (কোথা থেকে? বিদ্যালয় থেকে)
  • পাপ থেকে দূরে থাক। (কী থেকে? পাপ থেকে)
  • নদী থেকে মাছ ধরা। (কোথা থেকে? নদী থেকে)

অপাদানকারকে পঞ্চমী বিভক্তি: থেকে, হতে, চেয়ে।
অপাদানকারকে তৃতীয়া বিভক্তি: দিয়া (নির্গমন অর্থে)।

৬. অধিকরণকারক

ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, কাল বা বিষয়কে অধিকরণকারক বলে।

চেনার উপায়: ‘কোথায়’, ‘কখন’, ‘কীসে’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়।

উদাহরণ:

  • বাগানে ফুল ফোটে। (কোথায়? বাগানে)
  • বইয়ে লেখা আছে। (কীসে? বইয়ে)
  • সকালে সূর্য ওঠে। (কখন? সকালে)
  • মাঠে খেলা হয়। (কোথায়? মাঠে)
  • বৈশাখে গরম পড়ে। (কখন? বৈশাখে)

অধিকরণকারকে সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।
অধিকরণকারকে শূন্য বিভক্তি: কখনো কখনো বিভক্তি থাকে না।

অধিকরণের প্রকারভেদ:

  • স্থানাধিকরণ: বাড়িতে আছি
  • কালাধিকরণ: সকালে উঠি
  • বিষয়াধিকরণ: বিজ্ঞানে পারদর্শী

 

কারক নির্ণয় সারণি: দ্রুত চেনার উপায়

কারকপ্রশ্নবিভক্তিউদাহরণ
কর্তৃকারককে/কারা?শূন্য, এ, তে, য়ছেলে খেলে
কর্মকারককী/কাকে?কে, রে, শূন্যবই পড়ে
করণকারককী দিয়ে?দ্বারা, দিয়ে, এ, তেকলমে লেখা
সম্প্রদানকারককাকে (দান)?কে, রে, জন্যগরিবকে দান
অপাদানকারককী থেকে?থেকে, হতে, চেয়েগাছ থেকে পড়া
অধিকরণকারককোথায়/কখন?এ, য়, তেবাগানে ফুল

 

বিভক্তি: শব্দের পরিবর্তনশীল অংশ

বিভক্তি হলো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সাথে যুক্ত হয়ে কারক চিহ্নিত করে এমন শব্দাংশ। বিভক্তি চেনার উপায় জানলে কারক নির্ণয় সহজ হয়।

বিভক্তির প্রকারভেদ

বাংলা ভাষায় সাতটি বিভক্তি আছে:

১. প্রথমা বিভক্তি (শূন্য বিভক্তি):

  • কোনো চিহ্ন যুক্ত হয় না
  • উদাহরণ: ছেলে খেলে, পাখি উড়ে

২. দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে/রে):

  • কর্মকারক ও সম্প্রদানকারকে
  • উদাহরণ: তাকে দেখলাম, মাকে বলো

৩. তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা/দিয়ে/কর্তৃক):

  • করণকারক ও কর্তৃকারকে
  • উদাহরণ: কলম দিয়ে লিখি, তার দ্বারা কাজ হলো

৪. চতুর্থী বিভক্তি (কে/রে/জন্য/নিমিত্ত):

  • সম্প্রদানকারকে
  • উদাহরণ: গরিবের জন্য দান

৫. পঞ্চমী বিভক্তি (থেকে/হতে/চেয়ে):

  • অপাদানকারকে
  • উদাহরণ: ঢাকা থেকে এসেছি

৬. ষষ্ঠী বিভকতি (র/এর):

  • সম্বন্ধ পদে ব্যবহৃত হয়
  • উদাহরণ: রহিমের বই, বাবার নাম

৭. সপ্তমী বিভক্তি (এ/য়/তে):

  • অধিকরণ ও করণকারকে
  • উদাহরণ: বাড়িতে আছি, সকালে উঠি

 

শূন্য বিভক্তি

যখন কোনো বিভক্তি চিহ্ন দৃশ্যমান থাকে না তখন তাকে শূন্য বিভক্তি বলে। কারক বিভক্তি শিক্ষা অনুযায়ী এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ:

  • ছেলে (শূন্য) খেলে
  • পাখি (শূন্য) উড়ে
  • সূর্য (শূন্য) ওঠে
  • মা (শূন্য) রান্না করেন

অনুসর্গ ও বিভক্তির পার্থক্য

বিভক্তি: শব্দের সাথে লেগে থাকে
উদাহরণ: বাড়িতে, ছেলেকে

অনুসর্গ: শব্দের পরে আলাদা থাকে
উদাহরণ: হাত দিয়ে, জন্য, মধ্যে, নিকট, প্রতি

সাধারণ অনুসর্গ তালিকা:

  • দিয়ে, দ্বারা, কর্তৃক (করণে)
  • থেকে, হতে (অপাদানে)
  • জন্য, নিমিত্ত (সম্প্রদানে)
  • মধ্যে, ভিতরে, উপর, নিচে (অধিকরণে)
  • সহ, সাথে, সহিত (করণে)

 

 

কারক ও বিভক্তির সম্পর্ক: বিস্তারিত চার্ট

কারক নির্ণয় কৌশল বুঝতে নিচের বিস্তারিত সারণি দেখুন:

কারকবিভক্তিঅনুসর্গবাক্য উদাহরণপ্রশ্ন
কর্তৃকারকশূন্য, এ, তেদ্বারা, কর্তৃকরহিম বই পড়েকে পড়ে?
তার দ্বারা কাজ হলোকার দ্বারা?
কর্মকারককে, রে, শূন্যছাত্রকে পড়াইকাকে পড়াই?
বই পড়িকী পড়ি?
করণকারকএ, য়, তেদিয়ে, দ্বারাকলমে লিখিকী দিয়ে?
চোখে দেখিকীসে দেখি?
সম্প্রদানকারককে, রেজন্য, নিমিত্তগরিবকে দান করোকাকে দান?
মায়ের জন্যকার জন্য?
অপাদানকারকথেকে, হতে, চেয়েগাছ থেকে পড়াকোথা থেকে?
তোমার চেয়ে ভালোকার চেয়ে?
অধিকরণকারকএ, য়, তেমধ্যে, উপরবাগানে ফুলকোথায়?
সকালে উঠিকখন?

 

 

বিভক্তি চেনার উপায়: সহজ কৌশল

বিভক্তি চেনার উপায় শেখার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করুন:

কৌশল ১: বাক্যে ক্রিয়া খুঁজুন

প্রথমে বাক্যের ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করুন। তারপর ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত পদগুলো দেখুন।

উদাহরণ:
“রহিম কলম দিয়ে চিঠি লিখে।”

  • ক্রিয়া: লিখে
  • কে লিখে? রহিম (কর্তা)
  • কী লিখে? চিঠি (কর্ম)
  • কী দিয়ে লিখে? কলম দিয়ে (করণ)

কৌশল ২: প্রশ্ন পদ্ধতি ব্যবহার করুন

প্রতিটি কারকের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্ন করুন:

কর্তৃকারক: কে? কারা? কী?
কর্মকারক: কাকে? কী?
করণকারক: কী দিয়ে? কীসে? কেন?
সম্প্রদানকারক: কাকে দান/শিক্ষা?
অপাদানকারক: কোথা/কী থেকে?
অধিকরণকারক: কোথায়? কখন? কীসে?

কৌশল ৩: বিভক্তি চিহ্ন দেখুন

শব্দের শেষে যুক্ত চিহ্ন দেখে বিভক্তি বুঝুন:

-কে/-রে দেখলে: দ্বিতীয়া বা চতুর্থী
-এ/-য়/-তে দেখলে: সপ্তমী বা তৃতীয়া
-র/-এর দেখলে: ষষ্ঠী (সম্বন্ধ)
থেকে/হতে দেখলে: পঞ্চমী
দিয়ে/দ্বারা দেখলে: তৃতীয়া

কৌশল ৪: অর্থ বুঝুন

বাক্যের অর্থ বুঝে কারক নির্ণয় করুন:

দান/ত্যাগ অর্থ থাকলে: সম্প্রদান
বিচ্যুতি/উৎপত্তি অর্থ থাকলে: অপাদান
উপকরণ অর্থ থাকলে: করণ
স্থান/কাল অর্থ থাকলে: অধিকরণ

 

 

কারক ও বিভক্তি: ১০০টি অনুশীলন উদাহরণ

কর্তৃকারক উদাহরণ (২০টি)

১. ছেলেরা ফুটবল খেলে। (কে খেলে?) ২. পাখিরা আকাশে উড়ে। (কে উড়ে?) ৩. রবি স্কুলে যায়। (কে যায়?) ৪. শিক্ষক পড়ান। (কে পড়ান?) ৫. সূর্য পূর্বদিকে ওঠে। (কী ওঠে?) ৬. বৃষ্টি ঝরছে। (কী ঝরছে?) ৭. ফুল ফুটেছে। (কী ফুটেছে?) ৮. নদী বয়ে যায়। (কী বয়ে যায়?) ৯. কৃষক জমিতে কাজ করে। (কে করে?) ১০. ডাক্তার রোগী দেখেন। (কে দেখেন?) ১১. মা ভাত রান্না করেন। (কে করেন?) ১২. বাবা অফিসে যান। (কে যান?) ১৩. শিশু কাঁদছে। (কে কাঁদছে?) ১৪. বিড়াল দুধ পান করে। (কে করে?) ১৫. গরু ঘাস খায়। (কে খায়?) ১৬. মাছ সাঁতার কাটে। (কে কাটে?) ১৭. চাঁদ রাতে উঠে। (কী উঠে?) ১৮. বাতাস বইছে। (কী বইছে?) ১৯. কুকুর ঘেউ ঘেউ করে। (কে করে?) ২০. ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে। (কারা করে?)

কর্মকারক উদাহরণ (২০টি)

১. আমি বই পড়ি। (কী পড়ি?) ২. সে চিঠি লিখছে। (কী লিখছে?) ৩. মা ভাত রান্না করেন। (কী করেন?) ৪. শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান। (কাকে পড়ান?) ৫. আমি তোমাকে ভালোবাসি। (কাকে ভালোবাসি?) ৬. বাবা খবর শুনছেন। (কী শুনছেন?) ৭. ছেলে দুধ পান করে। (কী পান করে?) ৮. কৃষক জমি চাষ করে। (কী চাষ করে?) ৯. মালী ফুল রোপণ করে। (কী রোপণ করে?) ১০. ডাক্তার রোগীকে দেখেন। (কাকে দেখেন?) ১১. আমরা গান শুনি। (কী শুনি?) ১২. তারা নাটক দেখছে। (কী দেখছে?) ১৩. জেলে মাছ ধরে। (কী ধরে?) ১৪. শিকারী পাখি মারে। (কী মারে?) ১৫. পুলিশ চোরকে ধরেছে। (কাকে ধরেছে?) ১৬. রাজা প্রজাদের রক্ষা করেন। (কাদের রক্ষা করেন?) ১৭. আমি সত্য বলি। (কী বলি?) ১৮. সে মিথ্যা বলে। (কী বলে?) ১৯. ছাত্র প্রশ্ন করে। (কী করে?) ২০. শিক্ষক উত্তর দেন। (কী দেন?)

করণকারক উদাহরণ (২০টি)

১. কলম দিয়ে লিখি। (কী দিয়ে?) ২. চোখে দেখি। (কীসে দেখি?) ৩. কানে শুনি। (কীসে শুনি?) ৪. মন দিয়ে পড়ি। (কী দিয়ে?) ৫. হাতে ধরি। (কীসে ধরি?) ৬. পায়ে হাঁটি। (কীসে হাঁটি?) ৭. ছুরি দিয়ে কাটি। (কী দিয়ে?) ৮. শ্রমে সফলতা আসে। (কীসে আসে?) ৯. মেঘে বৃষ্টি হয়। (কীসে হয়?) ১০. দুঃখে কাতর। (কীসে কাতর?) ১১. আনন্দে নাচে। (কীসে নাচে?) ১২. ভয়ে কাঁপে। (কীসে কাঁপে?) ১৩. জ্ঞানে উন্নতি। (কীসে উন্নতি?) ১৪. বিদ্যায় মুক্তি। (কীসে মুক্তি?) ১৫. তীরে বিদ্ধ হয়। (কীসে বিদ্ধ?) ১৬. আগুনে পুড়ে। (কীসে পুড়ে?) ১৭. জলে ভাসে। (কীসে ভাসে?) ১৮. বাতাসে উড়ে। (কীসে উড়ে?) ১৯. রোদে শুকায়। (কীসে শুকায়?) ২০. ভাষায় প্রকাশ করি। (কীসে প্রকাশ করি?)

সম্প্রদানকারক উদাহরণ (১৫টি)

১. গরিবকে দান করো। (কাকে দান?) ২. শিক্ষককে সম্মান দাও। (কাকে দাও?) ৩. মাকে ফুল দিলাম। (কাকে দিলাম?) ৪. ছাত্রকে বই দিয়েছি। (কাকে দিয়েছি?) ৫. ব্রাহ্মণকে ভিক্ষা দাও। (কাকে দাও?) ৬. পাখিকে খাবার দাও। (কাকে দাও?) ৭. বন্ধুকে উপহার দিই। (কাকে দিই?) ৮. দেশের জন্য প্রাণ দাও। (কার জন্য?) ৯. মানুষের জন্য কাজ করো। (কাদের জন্য?) ১০. শিশুকে শিক্ষা দাও। (কাকে দাও?) ১১. রোগীকে সেবা করো। (কাকে করো?) ১২. অভাবীকে সাহায্য করো। (কাকে করো?) ১৩. অন্ধকে পথ দেখাও। (কাকে দেখাও?) ১৪. গুরুকে প্রণাম করো। (কাকে করো?) ১৫. মাতৃভূমির জন্য মরো। (কার জন্য?)

অপাদানকারক উদাহরণ (১৫টি)

১. গাছ থেকে ফল পড়ে। (কোথা থেকে?) ২. নদী থেকে মাছ ধরা। (কোথা থেকে?) ৩. দুধ থেকে দই হয়। (কী থেকে?) ৪. ঢাকা থেকে এসেছি। (কোথা থেকে?) ৫. স্কুল হতে ছুটি। (কোথা থেকে?) ৬. পাপ থেকে দূরে থাকো। (কী থেকে?) ৭. বিপদ থেকে রক্ষা পাও। (কী থেকে?) ৮. অন্ধকার থেকে আলো। (কী থেকে?) ৯. মৃত্যু হতে ভয়। (কী থেকে?) ১০. শীত থেকে বাঁচা। (কী থেকে?) ১১. বাড়ি হতে বের হওয়া। (কোথা থেকে?) ১২. তোমার চেয়ে সে ভালো। (কার চেয়ে?) ১৩. সোনা চেয়ে হীরা দামী। (কী চেয়ে?) ১৪. আকাশ থেকে বৃষ্টি। (কোথা থেকে?) ১৫. পর্বত থেকে ঝরনা। (কোথা থেকে?)

অধিকরণকারক উদাহরণ (১০টি)

১. বাগানে ফুল ফোটে। (কোথায়?) ২. বইয়ে লেখা আছে। (কীসে?) ৩. সকালে সূর্য ওঠে। (কখন?) ৪. মাঠে খেলা হয়। (কোথায়?) ৫. বৈশাখে গরম পড়ে। (কখন?) ৬. জলে মাছ বাস করে। (কোথায়?) ৭. আকাশে চাঁদ দেখা যায়। (কোথায়?) ৮. রাতে ঘুমাই। (কখন?) ৯. বিজ্ঞানে পারদর্শী। (কীসে?) ১০. দেশে শান্তি চাই। (কোথায়?)

 

 

সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি: পার্থক্য

অনেকে এই চারটি বিষয় গুলিয়ে ফেলেন। চলুন পার্থক্যগুলো স্পষ্টভাবে বুঝি:

বিষয়কাজউদাহরণবিশেষত্ব
সন্ধিদুই বর্ণ মিলে পরিবর্তনবিদ্যা+আলয়=বিদ্যালয়ধ্বনি পরিবর্তন
সমাসদুই পদ মিলে নতুন পদরাজা+পুত্র=রাজপুত্রঅর্থ পরিবর্তন
কারকক্রিয়ার সাথে সম্পর্কছেলে খেলে (কর্তা)সম্পর্ক চিহ্নিত
বিভক্তিশব্দে যুক্ত চিহ্নবাড়িতে, ছেলেকেকারক চিহ্নিত

মনে রাখার কৌশল:

  • সন্ধি = বর্ণের মিলন
  • সমাস = পদের মিলন
  • কারক = ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক
  • বিভক্তি = কারক চিহ্নিতকরণ

 

 

পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের ধরন

বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি, সমাস নিয়ম, এবং কারক বিভক্তি শিক্ষা থেকে পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে:

সন্ধি বিষয়ক প্রশ্ন

প্রকার ১: সন্ধি বিচ্ছেদ করুন

  • বিদ্যালয় = ?
  • সঞ্চয় = ?
  • মনোরম = ?

প্রকার ২: সন্ধি করুন

  • পরম + অর্থ = ?
  • সম + চয় = ?
  • নি: + চয় = ?

প্রকার ৩: কোন সন্ধি?

  • ‘রবীন্দ্র’ কোন সন্ধি?
  • ‘উল্লাস’ কোন সন্ধির উদাহরণ?

সমাস বিষয়ক প্রশ্ন

প্রকার ১: ব্যাসবাক্যসহ সমাস করুন

  • রাজার পুত্র = ?
  • তিন পথের সমাহার = ?

প্রকার ২: কোন সমাস?

  • ‘রাজপুত্র’ কোন সমাস?
  • ‘দশানন’ কোন সমাসের উদাহরণ?

প্রকার ৩: ব্যাসবাক্য লিখুন

  • মহারাজ = ?
  • পঞ্চনদ = ?

কারক ও বিভক্তি বিষয়ক প্রশ্ন

প্রকার ১: কারক নির্ণয় করুন

  • “রহিম বই পড়ে”—রহিম কোন কারক?
  • “কলমে লিখি”—কলম কোন কারক?

প্রকার ২: বিভক্তি চিহ্নিত করুন

  • “বাগানে ফুল ফোটে”—এখানে কোন বিভক্তি?

প্রকার ৩: শূন্যস্থান পূরণ

  • _____ দিয়ে লিখি। (করণকারক)

 

 

দ্রুত শিখুন: মেমরি টেকনিক

সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ মনে রাখার কৌশল:

স্বরসন্ধি মনে রাখুন:

  • অ+অ=আ → “হিমালয়” (হিম+আলয়)
  • অ+ই=এ → “দেবেন্দ্র” (দেব+ইন্দ্র)
  • অ+উ=ও → “মহোৎসব” (মহা+উৎসব)

ব্যঞ্জনসন্ধি মনে রাখুন:

  • ম+ক=ঙ → “সঙ্কল্প” (সম+কল্প)
  • ম+চ=ঞ → “সঞ্চয়” (সম+চয়)
  • ৎ+শ=চ্ছ → “উচ্ছ্বাস” (উৎ+শ্বাস)

সমাসের প্রকারভেদ মনে রাখুন:

দ্বন্দ্ব = দুই + দুই (উভয়ের অর্থ)
দ্বিগু = সংখ্যা + সমষ্টি
কর্মধারয় = বিশেষণ + বিশেষ্য
তৎপুরুষ = বিভক্তি লোপ + পরের অর্থ
বহুব্রীহি = তৃতীয় পদ বোঝায়
অব্যয়ীভাব = প্রথমে অব্যয়

কারক নির্ণয় মনে রাখুন:

Kর্তা = Kে?
Kর্ম = Kাকে/Kী?
Kরণ = Kী দিয়ে?
Sম্প্রদান = S্বত্ব ত্যাগ
Aপাদান = Aলাদা/বিচ্যুত
Aধিকরণ = Aবস্থান/সময়

 

 

অনুশীলনের জন্য সেরা উপায়

কারক নির্ণয় কৌশল এবং অন্যান্য বিষয় আয়ত্ত করার পদ্ধতি:

দৈনিক অনুশীলন পরিকল্পনা

১ম সপ্তাহ: সন্ধি

  • দিন ১-২: স্বরসন্ধির নিয়ম শিখুন
  • দিন ৩-৪: ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম শিখুন
  • দিন ৫-৬: বিসর্গসন্ধির নিয়ম শিখুন
  • দিন ৭: ৫০টি সন্ধি বিচ্ছেদ অনুশীলন

২য় সপ্তাহ: সমাস

  • দিন ১: দ্বন্দ্ব ও দ্বিগু সমাস
  • দিন ২: কর্মধারয় সমাস
  • দিন ৩-৪: তৎপুরুষ সমাস
  • দিন ৫: বহুব্রীহি সমাস
  • দিন ৬: অব্যয়ীভাব সমাস
  • দিন ৭: ১০০টি সমাস অনুশীলন

৩য় সপ্তাহ: কারক

  • দিন ১-২: কর্তৃ ও কর্মকারক
  • দিন ৩-৪: করণ ও সম্প্রদানকারক
  • দিন ৫-৬: অপাদান ও অধিকরণকারক
  • দিন ৭: সকল কারক মিশ্র অনুশীলন

৪র্থ সপ্তাহ: বিভক্তি ও পুনরালোচনা

  • দিন ১-২: সকল বিভক্তি শিখুন
  • দিন ৩-৪: কারক-বিভক্তির সম্পর্ক
  • দিন ৫-৭: সব বিষয়ের মিশ্র অনুশীলন

অনুশীলনের টিপস

১. প্রতিদিন ১ ঘণ্টা এই চারটি বিষয়ে দিন ২. নোট তৈরি করুন নিজের ভাষায় ৩. উদাহরণ সংগ্রহ করুন বই-পত্রিকা থেকে ৪. বন্ধুদের সাথে আলোচনা করুন ৫. মডেল টেস্ট দিন নিয়মিত ৬. ভুল থেকে শিখুন এবং পুনরায় চেষ্টা করুন

 

 

সাধারণ

ভুল ও সমাধান

বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি, সমাস নিয়ম, এবং কারক বিভক্তি শিক্ষা তে শিক্ষার্থীরা যেসব ভুল করেন:

সন্ধি সংক্রান্ত ভুল

ভুল ১: স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি গুলিয়ে ফেলা

❌ ভুল: বিদ্যালয় = বিদ + আলয় (ব্যঞ্জনসন্ধি)
✅ সঠিক: বিদ্যালয় = বিদ্যা + আলয় (স্বরসন্ধি)

সমাধান: সন্ধি বিচ্ছেদের সময় মূল শব্দের অর্থ বুঝুন। “বিদ্যা” একটি পূর্ণ শব্দ, “বিদ” নয়।

ভুল ২: বিসর্গসন্ধিতে ভুল বিচ্ছেদ

❌ ভুল: নিরন্ন = নির + অন্ন
✅ সঠিক: নিরন্ন = নি: + অন্ন

সমাধান: বিসর্গ (:) চিহ্ন মনে রাখুন এবং ‘র’ বা ‘স’ এর উৎস খুঁজুন।

ভুল ৩: সন্ধির নিয়ম না মিলানো

❌ ভুল: মহা + উৎসব = মহাউৎসব
✅ সঠিক: মহা + উৎসব = মহোৎসব (আ+উ=ও)

সমাধান: প্রতিটি সন্ধির পর নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করুন।

সমাস সংক্রান্ত ভুল

ভুল ১: তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি গুলিয়ে ফেলা

❌ ভুল: রাজপুত্র = বহুব্রীহি (তৃতীয় পদ বোঝায়)
✅ সঠিক: রাজপুত্র = তৎপুরুষ (রাজার পুত্র)

সমাধান: বহুব্রীহিতে সমস্ত পদের বাইরে তৃতীয় কিছু বোঝায়। “রাজপুত্র” মানেই রাজার পুত্র, অন্য কিছু নয়।

ভুল ২: দ্বিগু ও কর্মধারয় গুলিয়ে ফেলা

❌ ভুল: ত্রিভুবন = কর্মধারয়
✅ সঠিক: ত্রিভুবন = দ্বিগু (তিন ভুবনের সমাহার)

সমাধান: সংখ্যা দেখলে এবং সমষ্টি/সমাহার অর্থ থাকলে দ্বিগু।

ভুল ৩: ব্যাসবাক্যে ভুল

❌ ভুল: মহারাজ = মহা যে রাজা (উপমান কর্মধারয়)
✅ সঠিক: মহারাজ = মহান যে রাজা (সাধারণ কর্মধারয়)

সমাধান: বিশেষণ ও বিশেষ্যের সম্পর্ক বুঝুন। “মহা” এখানে “মহান” এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

কারক সংক্রান্ত ভুল

ভুল ১: কর্ম ও সম্প্রদান গুলিয়ে ফেলা

❌ ভুল: “ছাত্রকে পড়াই” = কর্মকারক
✅ সঠিক: “ছাত্রকে পড়াই” = কর্মকারক (শিক্ষা দান অর্থে সম্প্রদানও হতে পারে)

সমাধান: ক্রিয়ার অর্থ বুঝুন। “পড়ানো” ক্রিয়ায় কর্ম আর শিক্ষাদান উভয় অর্থ থাকতে পারে।

ভুল ২: করণ ও অধিকরণ গুলিয়ে ফেলা

❌ ভুল: “মাঠে খেলা” = করণকারক
✅ সঠিক: “মাঠে খেলা” = অধিকরণকারক (স্থান)

সমাধান: “কোথায়” প্রশ্নের উত্তর হলে অধিকরণ, “কী দিয়ে” প্রশ্নের উত্তর হলে করণ।

ভুল ৩: অপাদান চিহ্নিত না করতে পারা

❌ ভুল: “গাছ থেকে পড়া” = অধিকরণকারক
✅ সঠিক: “গাছ থেকে পড়া” = অপাদানকারক (বিচ্যুতি)

সমাধান: “থেকে” বা “হতে” দেখলে এবং বিচ্যুতি/উৎপত্তি অর্থ থাকলে অপাদান।

বিভক্তি সংক্রান্ত ভুল

ভুল ১: অনুসর্গ ও বিভক্তি গুলিয়ে ফেলা

❌ ভুল: “হাত দিয়ে” = বিভক্তি
✅ সঠিক: “হাত দিয়ে” = অনুসর্গ (আলাদা শব্দ)

সমাধান: শব্দের সাথে লেগে থাকলে বিভক্তি, আলাদা থাকলে অনুসর্গ।

ভুল ২: শূন্য বিভক্তি চিহ্নিত না করা

❌ ভুল: “ছেলে খেলে” = বিভক্তি নেই
✅ সঠিক: “ছেলে খেলে” = শূন্য বিভক্তি আছে

সমাধান: কোনো চিহ্ন না থাকলেও শূন্য বিভক্তি হিসেবে গণ্য হয়।

 

 

উন্নত পর্যায়ের টপিকস

সন্ধির ব্যতিক্রম

কিছু সন্ধি নিয়মের ব্যতিক্রম আছে:

১. প্রাতিপদিক অন্ত্য অ-কার:

  • গো + অক্ষ = গবাক্ষ (নিয়ম অনুযায়ী গোক্ষ হওয়ার কথা)
  • তে + অন = তবন (নিয়ম অনুযায়ী তোন হওয়ার কথা)

২. পদান্ত স্বরলোপ:

  • কবি + ইন্দ্র = কবীন্দ্র (নিয়ম অনুযায়ী কবি + ইন্দ্র = কবীন্দ্র)

৩. বিকল্প সন্ধি:

  • প্র + অঞ্জলি = প্রাঞ্জলি/প্রাঞ্জলী (উভয়ই শুদ্ধ)

বিশেষ ধরনের সমাস

১. নিত্য সমাস: যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না।

  • উদাহরণ: দেশান্তর, গৃহান্তর

২. প্রাদি সমাস: উপসর্গের সাথে কৃদন্ত পদের সমাস।

  • উদাহরণ: প্রগতি = প্র + গতি

৩. অলুক সমাস: যে সমাসে বিভক্তি লোপ পায় না।

  • উদাহরণ: ঘোড়ার ডিম

জটিল কারক নির্ণয়

১. দ্বি-কারক: কখনো কখনো একই পদ দুই কারক হতে পারে।

  • “পথে পথে ঘুরি” = অধিকরণ + করণ

২. কারক পরিবর্তন: ক্রিয়াভেদে একই পদ ভিন্ন কারক হতে পারে।

  • “জলে ভাসে” = অধিকরণ
  • “জলে ডোবে” = করণ

৩. বাক্য বিশ্লেষণ: জটিল বাক্যে প্রতিটি পদের কারক আলাদা নির্ণয় করুন।

 

 

পরীক্ষা প্রস্তুতি: মডেল প্রশ্ন

সন্ধি মডেল প্রশ্ন (১০টি)

১. সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: ক) পরস্পর = পর + পর খ) সূর্যোদয় = সূর্য + উদয় গ) উজ্জ্বল = উৎ + জ্বল ঘ) তপোবন = তপ: + বন ঙ) প্রত্যেক = প্রতি + এক

২. সন্ধি করুন: ক) গঙ্গা + উদক = গঙ্গোদক খ) পর + উপকার = পরোপকার গ) সম + চয় = সঞ্চয় ঘ) দু: + অবস্থা = দুরবস্থা ঙ) সৎ + জন = সজ্জন

৩. কোন সন্ধি? ক) বিদ্যালয় = স্বরসন্ধি খ) উদ্ধার = ব্যঞ্জনসন্ধি গ) মনোরম = বিসর্গসন্ধি ঘ) রবীন্দ্র = স্বরসন্ধি ঙ) সংসার = ব্যঞ্জনসন্ধি

সমাস মডেল প্রশ্ন (১০টি)

১. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয়: ক) রাজপুত্র = রাজার পুত্র (ষষ্ঠী তৎপুরুষ) খ) ত্রিভুবন = তিন ভুবনের সমাহার (দ্বিগু) গ) নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার (বহুব্রীহি) ঘ) মহারাজ = মহান যে রাজা (কর্মধারয়) ঙ) আমরণ = মরণ পর্যন্ত (অব্যয়ীভাব)

২. কোন সমাস? ক) দশানন = বহুব্রীহি খ) পঞ্চনদ = দ্বিগু গ) কালসাপ = কর্মধারয় ঘ) দেশসেবা = ষষ্ঠী তৎপুরুষ ঙ) মাতা-পিতা = দ্বন্দ্ব

৩. সমস্ত পদ গঠন করুন: ক) রাজার কন্যা = রাজকন্যা খ) পাঁচ বটের সমাহার = পঞ্চবটী গ) চন্দ্রের ন্যায় মুখ = চন্দ্রমুখ ঘ) দশ আনন যার = দশানন ঙ) প্রতি দিন = প্রতিদিন

কারক ও বিভক্তি মডেল প্রশ্ন (১০টি)

১. কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন: ক) “রহিম বই পড়ে” = রহিম (কর্তৃকারক, শূন্য বিভক্তি) খ) “কলমে লিখি” = কলম (করণকারক, সপ্তমী বিভক্তি) গ) “গাছ থেকে পড়া” = গাছ (অপাদানকারক, পঞ্চমী বিভক্তি) ঘ) “গরিবকে দান” = গরিব (সম্প্রদানকারক, চতুর্থী বিভক্তি) ঙ) “বাগানে ফুল” = বাগান (অধিকরণকারক, সপ্তমী বিভক্তি)

২. শূন্যস্থান পূরণ করুন: ক) ছেলেরা _____ খেলে। (মাঠে – অধিকরণকারক) খ) _____ দিয়ে কাটি। (ছুরি – করণকারক) গ) দুধ _____ দই হয়। (থেকে – অপাদানকারক) ঘ) শিক্ষক _____ পড়ান। (ছাত্রকে – কর্মকারক) ঙ) _____ জন্য কাজ করো। (দেশের – সম্প্রদানকারক)

 

 

সম্পদ ও রেফারেন্স বই

বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি এবং অন্যান্য বিষয় শেখার জন্য সেরা বইগুলো:

প্রাথমিক পর্যায়

১. নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই (বোর্ড বই) ২. হায়াৎ মামুদের ব্যাকরণ বই ৩. সৌমিত্র শেখরের ভাষা-শিক্ষা

মাধ্যমিক পর্যায়

১. পূর্ণেন্দু পত্রী – বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ২. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় – ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ ৩. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ – বাংলা ব্যাকরণ

উচ্চ পর্যায়

১. ড. হুমায়ুন আজাদ – বাক্যতত্ত্ব ২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – শব্দতত্ত্ব ৩. ড. মুহম্মদ এনামুল হক – বাংলা ভাষার ইতিহাস

অনলাইন রিসোর্স

  • বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইট
  • শুদ্ধ বানান চর্চা (ফেসবুক গ্রুপ)
  • YouTube চ্যানেল: বাংলা ব্যাকরণ শিক্ষা

 

দীর্ঘমেয়াদী দক্ষতা উন্নয়ন

সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ, সমাসের প্রকারভেদ, এবং কারক নির্ণয় কৌশল আয়ত্ত করার পরও নিয়মিত চর্চা জরুরি।

মাসিক পরিকল্পনা

১ম মাস:

  • সপ্তাহে ৫০টি সন্ধি অনুশীলন
  • সপ্তাহে ৫০টি সমাস অনুশীলন
  • দৈনিক ১০টি কারক-বিভক্তি চিহ্নিতকরণ

২য় মাস:

  • জটিল সন্ধি বিচ্ছেদ (৩০টি/সপ্তাহ)
  • বহুব্রীহি ও তৎপুরুষ সমাস বিশেষায়ন
  • বাক্য বিশ্লেষণে কারক নির্ণয়

৩য় মাস:

  • মডেল টেস্ট (সাপ্তাহিক)
  • বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান
  • দুর্বল ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ

বাস্তব প্রয়োগ

১. পত্রিকা পড়ার সময় সন্ধি ও সমাসবদ্ধ শব্দ চিহ্নিত করুন ২. গল্প-উপন্যাস পড়ার সময় কারক-বিভক্তি লক্ষ্য করুন ৩. লেখার সময় সঠিক ব্যাকরণ প্রয়োগ করুন ৪. কথা বলার সময় শুদ্ধ বাংলা ব্যবহার করুন

 

 

চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রয়োগ

বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি, সমাস নিয়ম, কারক বিভক্তি শিক্ষা বিভিন্ন পরীক্ষায় কীভাবে আসে:

বিসিএস পরীক্ষা

  • প্রিলিমিনারি: ১৫-২০ নম্বর বাংলা ব্যাকরণ থেকে
  • লিখিত: অনুবাদ ও রচনায় প্রয়োগ
  • ভাইভা: শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ ও প্রয়োগ

ব্যাংক জব

  • MCQ: সন্ধি-সমাস চিহ্নিতকরণ
  • লিখিত: পত্র লেখনে শুদ্ধ ব্যাকরণ

শিক্ষক নিয়োগ

  • বিস্তারিত প্রশ্ন: ব্যাসবাক্য, সন্ধি বিচ্ছেদ
  • ব্যবহারিক: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের দক্ষতা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ‘ক’ ইউনিটে বাংলা ব্যাকরণ
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: সাধারণ বিষয়ে ব্যাকরণ
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: মানবিক বিষয়ে ব্যাকরণ

 

প্রশ্নোত্তর: সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি

প্রশ্ন: বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি শেখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি শেখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত অনুশীলন এবং সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ মুখস্থ করা। প্রথমে স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধির মূল নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝুন। তারপর প্রতিদিন কমপক্ষে ২০-৩০টি সন্ধি বিচ্ছেদ অনুশীলন করুন। পত্রিকা বা বই পড়ার সময় সন্ধিবদ্ধ শব্দগুলো চিহ্নিত করে বিচ্ছেদ করার চেষ্টা করুন। উদাহরণ: বিদ্যালয়, সঞ্চয়, মনোরম—এসব শব্দ দেখলে তাৎক্ষণিক বিচ্ছেদ করার অভ্যাস গড়ুন। মূল নিয়মগুলো কার্ডে লিখে রাখুন এবং নিয়মিত পর্যালোচনা করুন।

প্রশ্ন: সমাসের প্রকারভেদ কীভাবে সহজে মনে রাখা যায় এবং চিহ্নিত করা যায়?

উত্তর: সমাসের প্রকারভেদ মনে রাখতে এবং সমাস নিয়ম প্রয়োগ করতে কিছু সহজ কৌশল আছে। প্রথমত, প্রতিটি সমাসের বৈশিষ্ট্য মনে রাখুন: দ্বন্দ্বে উভয় পদের অর্থ প্রধান এবং ‘ও’ যোগ থাকে; দ্বিগুতে প্রথমে সংখ্যা ও সমষ্টি অর্থ থাকে; কর্মধারয়ে বিশেষণ-বিশেষ্য সম্পর্ক থাকে; তৎপুরুষে বিভক্তি লোপ পায় এবং পরের অর্থ প্রধান; বহুব্রীহিতে তৃতীয় পদ বোঝায়; অব্যয়ীভাবে প্রথমে অব্যয় থাকে। একটি ফ্লোচার্ট তৈরি করুন এবং নিয়মিত ১০০টির মতো উদাহরণ অনুশীলন করুন। ব্যাসবাক্য তৈরি ও সমস্ত পদ গঠন—উভয় দিকে দক্ষ হওয়া জরুরি।

প্রশ্ন: কারক বিভক্তি শিক্ষা নেওয়ার সময় সবচেয়ে কঠিন কোন বিষয় এবং তা কীভাবে সহজ করা যায়?

উত্তর: কারক বিভক্তি শিক্ষায় সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো কর্ম ও সম্প্রদানকারক এবং করণ ও অধিকরণকারকের মধ্যে পার্থক্য বুঝা। এটি সহজ করতে প্রশ্ন পদ্ধতি ব্যবহার করুন। কর্মকারকে “কী/কাকে” প্রশ্ন করলে সাধারণ উত্তর পাওয়া যায়, কিন্তু সম্প্রদানে দান/ত্যাগ/শিক্ষা অর্থ থাকতে হবে। করণকারকে “কী দিয়ে/কেন” প্রশ্ন এবং উপকরণ অর্থ থাকে, আর অধিকরণে “কোথায়/কখন” প্রশ্ন ও স্থান/কাল অর্থ থাকে। প্রতিদিন ২০টি বাক্যে কারক নির্ণয় করুন এবং বিভক্তি চেনার উপায় হিসেবে চিহ্নগুলো (কে, এ, তে, থেকে ইত্যাদি) আলাদাভাবে লিস্ট করে মনে রাখুন। কারক নির্ণয় কৌশল আয়ত্ত হলে বাংলা ব্যাকরণে দক্ষতা অনেক বাড়বে।

প্রশ্ন: সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ অনুশীলনের জন্য কোন বইগুলো সবচেয়ে ভালো?

উত্তর: সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ অনুশীলনের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বাংলা ব্যাকরণ বই সবচেয়ে ভালো ভিত্তি। এছাড়া হায়াৎ মামুদের ব্যাকরণ বইয়ে প্রচুর সন্ধি উদাহরণ রয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের জন্য পূর্ণেন্দু পত্রীর “বাংলা ভাষার ব্যাকরণ” এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের “ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ” অ

ত্যন্ত কার্যকর। চাকরি প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন প্রকাশনীর বিসিএস প্রস্তুতি বই যেমন ওরাকল, প্রফেসরস, এমপিথ্রির বাংলা ব্যাকরণ অংশ খুবই উপকারী। অনলাইনে বাংলা একাডেমির ডিজিটাল সংস্করণ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ইউটিউব চ্যানেল থেকেও প্রচুর সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত অনুশীলন—প্রতিদিন অন্তত ৩০-৫০টি সন্ধি বিচ্ছেদ করুন এবং ভুলগুলো নোট করে রাখুন।

প্রশ্ন: বিভক্তি চেনার উপায় কী এবং বিভক্তি ও অনুসর্গের পার্থক্য কীভাবে বুঝব?

উত্তর: বিভক্তি চেনার উপায় হলো শব্দের সাথে লেগে থাকা চিহ্ন দেখা। যেমন “বাড়িতে” শব্দে ‘তে’ বিভক্তি বাড়ি শব্দের সাথে লেগে আছে। সাতটি বিভক্তি মনে রাখুন: প্রথমা (শূন্য), দ্বিতীয়া (কে/রে), তৃতীয়া (দ্বারা/দিয়ে), চতুর্থী (কে/রে/জন্য), পঞ্চমী (থেকে/হতে), ষষ্ঠী (র/এর), সপ্তমী (এ/য়/তে)। বিভক্তি ও অনুসর্গের মূল পার্থক্য হলো: বিভক্তি শব্দের সাথে লেগে থাকে এবং পৃথক করা যায় না (“বাড়িতে”), কিন্তু অনুসর্গ আলাদা শব্দ হিসেবে থাকে (“হাত দিয়ে”, “জন্য”, “মধ্যে”)। অনুসর্গ সাধারণত বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে এসে অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে। কারক বিভক্তি শিক্ষায় এই পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

প্রশ্ন: কারক নির্ণয় কৌশল কী এবং দ্রুত কারক চিহ্নিত করার সহজ পদ্ধতি কী?

উত্তর: কারক নির্ণয় কৌশলের মূল ভিত্তি হলো প্রশ্ন পদ্ধতি। প্রথমে বাক্যের ক্রিয়াপদ খুঁজুন, তারপর প্রতিটি কারকের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্ন করুন: কর্তৃকারক—”কে/কারা ক্রিয়া করে?”; কর্মকারক—”কী/কাকে ক্রিয়া করা হয়?”; করণকারক—”কী দিয়ে/কীসে/কেন?”; সম্প্রদানকারক—”কাকে দান/শিক্ষা দেওয়া হয়?”; অপাদানকারক—”কোথা/কী থেকে বিচ্যুত/উৎপন্ন?”; অধিকরণকারক—”কোথায়/কখন/কীসে?”। দ্রুত চিহ্নিতকরণের জন্য বিভক্তি চিহ্ন দেখুন: ‘কে/রে’ দেখলে কর্ম বা সম্প্রদান, ‘দিয়ে/দ্বারা’ দেখলে করণ, ‘থেকে/হতে’ দেখলে অপাদান, ‘এ/তে’ দেখলে অধিকরণ বা করণ। নিয়মিত ২০-৩০টি বাক্যে অনুশীলন করলে কারক নির্ণয় স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: সমাস নিয়ম প্রয়োগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী এবং তা কাটিয়ে ওঠার উপায় কী?

উত্তর: সমাস নিয়ম প্রয়োগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি সমাস এবং কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসের মধ্যে পার্থক্য করা। এটি কাটিয়ে উঠতে মূল বৈশিষ্ট্য মনে রাখুন: তৎপুরুষে পরের পদের অর্থ প্রধান এবং বিভক্তি লোপ পায় (“রাজপুত্র” মানে রাজার পুত্র), কিন্তু বহুব্রীহিতে সমস্ত পদ ছাড়া তৃতীয় কোনো পদ বোঝায় (“দশানন” মানে দশ মুখওয়ালা রাবণ)। কর্মধারয়ে বিশেষণ-বিশেষ্য সম্পর্ক থাকে (“নীলপদ্ম” = নীল যে পদ্ম), কিন্তু দ্বিগুতে প্রথমে সংখ্যা এবং সমষ্টি অর্থ থাকে (“ত্রিভুবন” = তিন ভুবনের সমাহার)। প্রতিটি প্রকারের ৫০টি করে উদাহরণ মুখস্থ করুন এবং ব্যাসবাক্য থেকে সমস্ত পদ ও সমস্ত পদ থেকে ব্যাসবাক্য—উভয় দিকে অনুশীলন করুন।

 

আপনার বাংলা ব্যাকরণ দক্ষতা উন্নত করুন আজই

সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি বাংলা ভাষার মূল ভিত্তি। এই চারটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে আপনি শুধু পরীক্ষায় ভালো করবেন না, বরং বাংলা ভাষায় সাবলীল হয়ে উঠবেন। বাংলা ব্যাকরণ সন্ধি থেকে শুরু করে কারক নির্ণয় কৌশল পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় আয়ত্ত করতে নিয়মিত অনুশীলন এবং সঠিক গাইডলাইন প্রয়োজন।

আজই শুরু করুন আপনার বাংলা ব্যাকরণ যাত্রা। প্রতিদিন ১ ঘণ্টা সময় দিন এবং ৩ মাসে দেখবেন আপনি বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। মনে রাখবেন, সমাসের প্রকারভেদ বুঝতে হলে শুধু মুখস্থ নয়, বোঝার মাধ্যমে শিখতে হবে। বিভক্তি চেনার উপায় এবং সন্ধি বিচ্ছেদ উদাহরণ প্রতিদিন অনুশীলন করুন।

 

বাংলা ভাষার সৌন্দর্য ও গভীরতা আপনার হাতের মুঠোয়। শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিয়মিত অনুশীলন। কারক বিভক্তি শিক্ষাসমাস নিয়ম আয়ত্ত করে নিজেকে বাংলা ভাষায় পারদর্শী করে তুলুন। সফলতা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে!

 

সর্বশেষ পরামর্শ ও মোটিভেশন

বাংলা ব্যাকরণ শেখা কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের সাথে এগিয়ে গেলে সফলতা অবশ্যম্ভাবী। প্রতিদিন অল্প অল্প করে এগোন, তাড়াহুড়ো করবেন না। একটি বিষয় পুরোপুরি বুঝে তারপর পরবর্তী বিষয়ে যান।

মনে রাখার মন্ত্র:

  • নিয়মিত অনুশীলন = সফলতার চাবিকাঠি
  • বোঝার মাধ্যমে শিখুন = দীর্ঘস্থায়ী জ্ঞান
  • ভুল থেকে শিখুন = দ্রুত উন্নতি
  • অন্যদের শেখান = নিজের দক্ষতা যাচাই

আপনার বাংলা ব্যাকরণ শেখার যাত্রায় শুভকামনা রইল। মনে রাখবেন, প্রতিটি বিশেষজ্ঞও একসময় শিক্ষানবিস ছিলেন। আপনিও পারবেন!

Search Here